বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১২

ভালবাসা, ভালবাসা করে প্রাণ করলি  ওষ্ঠাগত

হায় রে মানুষ!
হৃদয়ে তোর আগুন পুষে
খড়কুটোকে দিয়ে দিলি প্রশ্রয়!


কখনো ফিরবে না বললেই যায় না চলে যাওয়া
অস্তিত্ব টুকরো কাঁচের মত, স্মৃতিরাও।
সন্তর্পণে রয়ে যায়, ছড়ানো ছিটানো কখনো
 দাগ কেটে আহত করে দেয়, হয় রক্তক্ষরণ মনে
সে ক্ষত যায় না দেখা, হয় না কোন উপশম!

একেকটি দাগের ওপর পড়ে আরো বিষম আঁচড়।

অন্ধকারময় জ্যোতস্নার ভিড়ে স্নাত
হঠাত চমকে দেওয়া জোনাকের আগমনে
ডুবন্ত বালিয়াড়ি ... বিষন্ন হাসির শেষ কোণ-
বেয়ে উঁকি দেওয়া নিখোঁজ দুপুর।

সূর্য্যের উতসবে চিকচিকে ত্বকের ভাঁজে
লুকোনো অশ্রু-ঘাম, বোবা আর্তনাদ!



বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১২

আমার বাড়ির পুকুরে শান্ত আকাশ দাঁড়িয়ে
দুপুর বেলা, রোদ এখানে এলিয়ে পড়ছে
গাছের পাতা গ'লে লুটিয়ে দিচ্ছে আদর
আর মৃদু বাতাসে নাম না জানা কত ফুলের গন্ধ!
 দূর থেকে তখন মানুষ দেখা যায় দু' এক করে
সবুজ ক্ষেতের আল বেয়ে খোলা গা'য়ে
সুখী চোখে, ভরা পেট আর পান জর্দা'র বিলাস।
সামান্যে কি অসামান্য আনন্দ ভাসে তাতে!
 তাঁত জড়ানো শরীরের  ভাঁজে আড়মোড়া ভাঙ্গে
নারীর হাসির কাকলিতে ঠাঁসা রুপার নোলক
আমার কপালে শুধু এক নীল বিন্দু টিপ দেখে
অপার বিস্ময়ে লুকিয়ে রাখে শহর দেখার ইচ্ছেটা!
ভাবে বুঝি, কোন এক হাট বারে
মনের মানুষটার সাথে আহ্লাদে নদী পেরিয়ে
চলে যাবে রঙের বাহারে মোড়া শহরে।
সন্ধ্যা বাতি জ্বালানোর ছলে ফিরে যাবে গাঁ'য়ে ফের
নীল বিন্দু টিপে বড় অস্বস্তি, মনে হবে তার ...
আহা! কি সহজ বসবাস।
মরচে পড়ে না মাটির শীতলতায়, সম্পর্কে কোন!
ধূলোয় ধোয়া শরীর ঝেড়ে দিলো ছুট
একদল পাখির মত ঝলমলে ছেলেগুলো
মাছরাঙ্গার সাথে পাল্লা দিয়ে সেরে নিল স্নান।
আর জলের রঙ এখন আসমানী থেকে সবুজ,
আকাশের রুপ গেছে পালটে!
আমি পা বাড়াই, ঘুরে দাঁড়াই, দেখি কূয়োর ধার
মনে পড়ে মা'র সাবধানী।
 উঠোন পেরিয়ে খড়ের গুদাম, নিংড়ানো শুকনো ধান।
একপাশে পড়ে থাকা মাটির বাসনগুলো
পুতুলের সংসার; শাড়ি, মস্ত বড় বড় ঘুড়ি!
 এখন হাতে প্রিয় পানা ফুল, বেগুনী সাদায়
আদুরে ছেলেটার অসাধারণ হাসি মাখা উপহার!
দাদাভাইয়ের বসার চেয়ার, দাদুর আলতা, রাজহাঁস, টাইগার
সিন্দুক, খাট, আরো আসবাব
দেখে দেখে বিকেল গড়ায়
আযান, শংখধ্বনি কানে আসে ভেসে
ইচিং বিচিং, ডাঙ্গুলি, এক্কা দোক্কা আর গোল্লাছুটে 
একাকার প্রিয় মাঠ।
আষাঢ়ের মেঘ, বৃষ্টি কাঁদায় গড়াগড়ি
ভূতের রাজ্যে বীরবেশী রাজপুত্র আমি
অনাচার শেষ করে সত্যের খোঁজে। 


... সেই আমার প্রিয় বাড়ি
সেখানে ছোট ছোট করে ছড়ানো শৈশব
অথবা নিরব দীর্ঘশ্বাস আর অবধারিত আমি!


 

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

মানুষ দিনে দিনে বদলে যায় বলেই
পৃথিবী এগিয়ে চলে, শুনেছি।
আমি কি তবে মানুষ নই?
পৃথিবীটা থেমে আছে যে!

শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২

বৃষ্টির স্বর শুনি কান পেতে
ভরা বর্ষায় শুকনো পাতাগুলো সব
মাটির গা'য়েতে লেগে থাকা ধূলোর পথে
ভিজে উঠলো একসাথে।
কোথায় কোন এক ফেলে আসা ঘরে
আজ কেউ করে গুঞ্জন হয়ত বা!
নরম কোমল ভেজা ঘাস মাড়িয়ে
ছুঁতে কি পারে কঠোরতা?
চোখগুলো পড়ে নিতে পারে
অনুচ্চারিত শব্দ প্রতিজ্ঞার?
ফিরে আসি এই চেনা বাড়িতে
পুরনো আমি, এক সেই কোণটাতে দাঁড়িয়ে
মনে মনে এঁকেবেঁকে যাই
নানা রঙ্গে মোড়ানো জীবনের প্রতি ধাপ
আমাকে করে দেয় অচেনা।
এবার আবার আমি আমি'র সঙ্গে
একা একা শুধু একা দায় নিয়ে
বসে রই প্রতীক্ষায় ...

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

আমাকে করো না প্রশ্ন
জলের কোন রঙ কেন পাই না খুঁজে
উত্তরগুলো অন্য বাড়ি গেছে,
চোখের পাশে শুকিয়ে যাওয়া দাগের কোলে
ঢেউয়ের মত উথাল পাথাল মনের বিড়ম্বনায়
শুকিয়ে যাওয়া নদীর রেখার মত।




বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১২


আহ! তোমাকে ভোলা যায় না
ঘুম ভেঙ্গে গেলে পরে যে স্মৃতির ভোরে
ডুকরে কাঁদে হৃদয়,
নিয়ে যায় তোমার কাছে সে রোজ।
বুকভরা বাতাসের মিতালি আর
প্রথম সূর্য্যের সাথে বেড়ে চলো তুমি
যেদিকে তাকাই, যে পথেই যাই,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকো
ছায়ায় মিলিয়ে নাও গোপন প্রণয়।