বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১২

একটি অপাংক্তেয় দীর্ঘশ্বাস আর মিনিট দুয়েকের বিরতি
তারপর চিরচেনা ঘাসের বুকে মাথা পেতে দেওয়া অতীতের প্রক্ষেপণ
অতীত যা বিস্তীর্ণ জলরাশি, সমুদ্রের ঢেউয়ের গায়ে লেগে থাকা ফেনা
আছড়ে পড়ে, ভেতরের সব জল নিংড়ে কেউটে সাপের মত ফণা তুলে
মুহূর্তেই বিলীন হয়ে ফের ফুঁসে ওঠে নিরব আক্রোশে, সবার উপরে।
সবুজে সবুজময় ঘাসেরা হারায় সকল সজীব কোমল আবেগ।

সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২

সারাদিন বৃষ্টি পড়ে, মনে; শরীরে।
জীবন বড় ক্লান্ত হয় যাপনে।
সারাদিন এক ঘোর লেগে থাকে, বিষাদের।
সারাদিন, একটি করে দিন খসে পড়ে।
সারাদিন কান্না ঝরে গোপনে।

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

হাত বাড়ালেই বন্ধু মেলে! বল?
বন্ধু মানে একলা আকাশ, জল টলমল বৃষ্টি দুপুর
মেঘের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া মনের কোণে উঁকিঝুঁকি
পদ্ম পুকুর। কষ্ট রোদে চুপি চুপি হেঁটে যাওয়া পথের ধারে
দেখতে পাওয়া এক জোড়া চোখ, কাতর ভীষণ!
তোর রং'য়েতে হারিয়ে যাওয়া প্রবল তেজী আরেক মানুষ।
তোরই মতন স্বপ্ন বোনা, তোরই মতন উথাল পাথাল
আবেগ নদী সাঁতরে সে যে গড়িয়ে পড়ে
জীবন বোধের উজার প্রেমে!
সে তো তোর মাঝেতে বেড়ে চলা প্রচন্ড এক শক্তি বিষম
তোর হাসিতে লুটিয়ে পড়ে, সোঁদা মাটির গন্ধ শোঁকে
মুঠোতে ঠিক পুষে রাখে তোর না ভোলা সুখগুলোকে, দুখগুলোকে!
হাত বাড়ালেই বন্ধু মেলে! বল?

বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১২

রাত বেদনার মত কাতর,
নিস্তেজ, নির্লিপ্ত বাতাসের মত
কি আশ্চর্য শান্তিতে
কাঁপায় এ বুক!

চোখের তারা'র মত প্রগলভ রাত
বাদামি তারা'র চোখ, ব্যাথিত চোখ
সুদৃঢ় অভিমানে।

রাত দ্বিধা, সংশয়
অন্ধকারে সঁপে ... একা
করে রাত পাড়!
সকালের আলোতে, অগোচরে
হারায় আবার।

আহা! ঘুমহীন ক্লান্ত ক্লান্ত কত রাত!
ভালবাসা, ভালবাসা করে প্রাণ করলি  ওষ্ঠাগত

হায় রে মানুষ!
হৃদয়ে তোর আগুন পুষে
খড়কুটোকে দিয়ে দিলি প্রশ্রয়!


কখনো ফিরবে না বললেই যায় না চলে যাওয়া
অস্তিত্ব টুকরো কাঁচের মত, স্মৃতিরাও।
সন্তর্পণে রয়ে যায়, ছড়ানো ছিটানো কখনো
 দাগ কেটে আহত করে দেয়, হয় রক্তক্ষরণ মনে
সে ক্ষত যায় না দেখা, হয় না কোন উপশম!

একেকটি দাগের ওপর পড়ে আরো বিষম আঁচড়।

অন্ধকারময় জ্যোতস্নার ভিড়ে স্নাত
হঠাত চমকে দেওয়া জোনাকের আগমনে
ডুবন্ত বালিয়াড়ি ... বিষন্ন হাসির শেষ কোণ-
বেয়ে উঁকি দেওয়া নিখোঁজ দুপুর।

সূর্য্যের উতসবে চিকচিকে ত্বকের ভাঁজে
লুকোনো অশ্রু-ঘাম, বোবা আর্তনাদ!



বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১২

আমার বাড়ির পুকুরে শান্ত আকাশ দাঁড়িয়ে
দুপুর বেলা, রোদ এখানে এলিয়ে পড়ছে
গাছের পাতা গ'লে লুটিয়ে দিচ্ছে আদর
আর মৃদু বাতাসে নাম না জানা কত ফুলের গন্ধ!
 দূর থেকে তখন মানুষ দেখা যায় দু' এক করে
সবুজ ক্ষেতের আল বেয়ে খোলা গা'য়ে
সুখী চোখে, ভরা পেট আর পান জর্দা'র বিলাস।
সামান্যে কি অসামান্য আনন্দ ভাসে তাতে!
 তাঁত জড়ানো শরীরের  ভাঁজে আড়মোড়া ভাঙ্গে
নারীর হাসির কাকলিতে ঠাঁসা রুপার নোলক
আমার কপালে শুধু এক নীল বিন্দু টিপ দেখে
অপার বিস্ময়ে লুকিয়ে রাখে শহর দেখার ইচ্ছেটা!
ভাবে বুঝি, কোন এক হাট বারে
মনের মানুষটার সাথে আহ্লাদে নদী পেরিয়ে
চলে যাবে রঙের বাহারে মোড়া শহরে।
সন্ধ্যা বাতি জ্বালানোর ছলে ফিরে যাবে গাঁ'য়ে ফের
নীল বিন্দু টিপে বড় অস্বস্তি, মনে হবে তার ...
আহা! কি সহজ বসবাস।
মরচে পড়ে না মাটির শীতলতায়, সম্পর্কে কোন!
ধূলোয় ধোয়া শরীর ঝেড়ে দিলো ছুট
একদল পাখির মত ঝলমলে ছেলেগুলো
মাছরাঙ্গার সাথে পাল্লা দিয়ে সেরে নিল স্নান।
আর জলের রঙ এখন আসমানী থেকে সবুজ,
আকাশের রুপ গেছে পালটে!
আমি পা বাড়াই, ঘুরে দাঁড়াই, দেখি কূয়োর ধার
মনে পড়ে মা'র সাবধানী।
 উঠোন পেরিয়ে খড়ের গুদাম, নিংড়ানো শুকনো ধান।
একপাশে পড়ে থাকা মাটির বাসনগুলো
পুতুলের সংসার; শাড়ি, মস্ত বড় বড় ঘুড়ি!
 এখন হাতে প্রিয় পানা ফুল, বেগুনী সাদায়
আদুরে ছেলেটার অসাধারণ হাসি মাখা উপহার!
দাদাভাইয়ের বসার চেয়ার, দাদুর আলতা, রাজহাঁস, টাইগার
সিন্দুক, খাট, আরো আসবাব
দেখে দেখে বিকেল গড়ায়
আযান, শংখধ্বনি কানে আসে ভেসে
ইচিং বিচিং, ডাঙ্গুলি, এক্কা দোক্কা আর গোল্লাছুটে 
একাকার প্রিয় মাঠ।
আষাঢ়ের মেঘ, বৃষ্টি কাঁদায় গড়াগড়ি
ভূতের রাজ্যে বীরবেশী রাজপুত্র আমি
অনাচার শেষ করে সত্যের খোঁজে। 


... সেই আমার প্রিয় বাড়ি
সেখানে ছোট ছোট করে ছড়ানো শৈশব
অথবা নিরব দীর্ঘশ্বাস আর অবধারিত আমি!