বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

ছায়ারা পাখিদের মত, উড়ে যায়/ 
এখানে রোদের নরম আলোয় আমি দেখি/ 
মায়াভরা তোমাদের মুখ/ 
দেখি, হাসির রেশে অশ্রুবিন্দু ক্রমাগত সোনালি হয়/
টিয়ে রং আবৃত গ্রাম্য বধুর নোলকে জড়ো হয়/ 
করজোড় মিনতি আমার/ 
আমি তোমাদের আগে পিছে, 
হৃদয়ের মাঝে এভাবেই থাকি/ 
ঠোঁট ফেটে চৌচির হলে/ 
শুকনো মাঠ মনে আসে/ 
ভরা বর্ষায় জলমগ্ন মেঘবালিকারা/ 
শব্দের অলক্ষ্যে আমাকে তোমাদের আর্দ্রতা দিয়ে যায় ...
রাত গভীর ও সুন্দর!/ 
গভীরতাহীন জল কতকাল আর দেখো তুমি?/ 
অথচ রাতের পাখায় ভর করে পান করো অভিমান পেয়ালা/ 
ঝেড়ে ফেলো দ্বেষ/ 
উপশম করো ক্লান্তির/ 
হয়ে ওঠো নতুন ভোর আরেক!/
রাত গভীর মানে নিশ্চিত ঘুমুচ্ছে পাখি/ 
তার ডানা ঝাপটানোর শব্দ/ 
তোমায় তাড়িত করবে না/ 
রাত আর পৃথিবীর তাবৎ আসরে তখন/ 
নতুন ভোরগুলো আড়মোরা ভাংছে/ 
ব্যস্ত রাস্তাগুলো যারা অনেকটা সময় বিশ্রাম নিল/ 
তারাও ভাংছে সম্মোহন/ 
জেগে উঠছে আর গায়ে মাখছে ভোরের পদক্ষেপ!/ 
রাত গভীর মানে তুমি প্রদক্ষিণ করে এসেছো/ 
শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য/
 আর সূর্য উঠছে/ 
কারণ সূর্য উঠবেই!
সন্ধ্যার আলো থেকে দুপুরের অন্ধকার
ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে আসে
থাকে কেবলই অবাক চোখের তারা
সে নিরব অতি, না বলা অনেক কথা।
হয়ত অনেক পথ চলা বাকি রেখে 
চুপ করে বসে থাকা তবু
দিন যাক, ভোর হোক আরো।
'ওগো দুখ জাগানিয়া, তোমায় গান শোনাব।'
#নিঃশ্বাসের ভিড় কড়া নাড়ে/
রাতের বাতাস সম্মোহনের সুর/ 
আঁধার ছুঁয়ে ঘুম পালানোর উত্সবে/ 
শহরের শেষ বাড়িটা/ 
ভিজছে একা বৃষ্টিতে!


#এই শহরে ভালবাসা কুসুম কুসুম. 
বৃষ্টি নামে আমায় ছাড়া. 
মেঘলা বাতাস/ ভিজছে ফুল, ভিজছে পাতা/ 
আলুথালু হৃদয়াকাশ

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫

মন আকাশের মতন মেখলা
তর্জনী ও মধ্যমা'র ভাঁজে কমনীয় যত্নে ধরে রাখা
ওষ্ঠের উত্তাপ।
কুয়াশার বৈতরণী ভেদ করে
একেকটি একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছে, শেকড়ের ফাঁকে
দু'টো শালিক দেখতে চাওয়ার বাসনা।
ক্রমাগত রোদ কালো করে আসা সন্ধ্যায়
শান্ত জলের মত সবুজ আর মায়ামাখা চোখ
কাচের ওপারে যেখানে আর পৌঁছোয় না চিরকুট
হাওয়ায় ভেসে যায়, আজীবন যৌথ কাটানোর
ভয়াবহ সুপ্ত বাসনা।
মন ভাসমান গন্ধ তার গায়ে
লেপ্টে থাকা অযাচিত আদরের রেশ
আশ্রয়-প্রশ্রয়-খেয়ালের নিষেধ টপকে
কেবলই গুনগুন গেয়ে ওঠা গান।

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৪

যখন অগাধ সময়, হুল্লোড়ে মাতে
তুমি আনমনে পাতাদের ওড়াউড়ি দেখে
বিস্ময়ের দেয়াল গড়ো!
রাতের অর্ধেক ভাগে ... শীত সবচেয়ে মোহময়
আড়ি পেতে যেই কথা শুনতে চেয়েছিলে
নৈঃশব্দে শিশিরের ঢেউ
টুপটাপ ঝরে পড়ে ...
সেই কথা বলে-
অবিরাম।

সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৪


একটি প্রেমের কবিতা


তুমি আর কতদূরে যাবে?
বলো, হে সুদর্শন!
তুমি পারবে না যে ভোরের আলো,
আমার গায়ের রঙ মেখে তোমাকে ছোঁয়;
তাকে অবজ্ঞা করে, মুখ ফেরাতে!
তোমার ঘুম; দুঃস্বপ্নে ভেঙ্গে গেলে
গলায় খুশখুশে কাশির মাঝে কম্পমান-
সকল ধ্বনিতে আমি বিদ্যমান!
তুমি যেই মেঝেতে পা ফেলে রোজ হাঁটো,
জেনো, ওখানেই পেতে রাখি বুক।

আমাকে মাড়িয়ে তুমি ...
কতশত প্রেমিকাকে চুমু খেলে,
তাদের চোখের বিন্দুতে পেলে
প্রিয় পৃথিবী তোমার!

আমি স্থির হয়ে থাকি
আমার স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণে'র পাঠ চুকে যায়,
তোমার একেকটা দিকভ্রমে।

তুমি কি দেখছো আকাশ?
কিংবা জলের বাড়ি; রাজহাঁস ...
কতবার তোমার জন্য আমি ছত্রে ছত্রে
গুঁড়ি গুঁড়ি মেঘ পাঠালাম।
তুমি সেই মেঘেদের নিমন্ত্রণে পথে নেমে গেলে
তোমার সাঁওতালী চামড়ায়, বৃষ্টির ফোঁটা জমে
একেকটা হীরকখন্ডের জন্ম!
আমি প্রাণপণ সেই ছবি এঁকে
ঠান্ডা বাতাসে ওড়ালাম চুল;
পড়লাম নাকফুল!

তোমার লেখার খাতায়, বিছানায়,
জানলার কার্নিশে, চুয়ে পড়া বিভ্রমে
যে বিষাদ উঁকি দেয় প্রায়শঃ
ওখানে, সেখানে, সবখানে আমারই সে তুমি!

তোমাকে চেয়েছি বলে, দেখো
অবাক আস্পর্ধায় বাড়িয়েছি হাত অজানাতে।
তোমাকে চেয়েছি বলে,
একশো দুপুর আর হাজারটা সন্ধ্যা
একদম পেছনে ফেলে ছুটে গেছিলাম।
তোমাকে চেয়েছি বলে, বলতে পারিনি, কতটা চেয়েছি!
তারপর তোমাকে বাড়তে দেব বলে
বন্ধক রেখেছি জীবন আমার!

তোমার কাজের মাঝে সিদ্ধান্তহীনতা,
স্নান ঘরে ফেলে আসা মোহনীয় শার্ট,
কোমল পানীয়র গ্লাসে দৃঢ় চুমুক,
হাতের দৃপ্ত ভাঁজ, কপালের রেখায়
একা'র অভিযান, কিংবা বিলাসী আড্ডায়-
যাকে যাকে করো আমন্ত্রণ,
তাদের সকলের ফাঁক গলে
আমি চুরি করে নিই, সেই হাসি।
যতবার অন্যের হয়ে আছো,
জেনো, আমি সেখানেই আছি।
যতবার পালিয়েছো আমার থেকে
ততবার ছায়া হয়ে শরীরে শরীরে-
মনের গহীনে, নিয়েছি ঠাঁই। ...