শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮

মায়ের শরীর ঘেঁষে বুনো ঘাস দোল খাচ্ছে
তারা আরো জ্যোতির্ময়, ঝলমলে যেন মখমল
ছোট বড় পিঁপড়ার দল ছুটছে যূথবদ্ধ।
ছোটবেলায় একই বাড়ির উঠানে ওদের গতিরোধ করেছি
মা বলতো, 'ওদের পথে বাঁধা হয় না মা।'
আমি খুব আদুরে, মা বলতো 'আমার বিড়াল, ঘুমালে তো কিছু টের পাস না,
একটু রোদ আর লেপের গায়ে শীত লেগে গেলে তোর ঘুম শুরু' ...
কত রাত পরীক্ষার প্রহরের আগে আমি ঘুমাতাম, মা পা টিপে এসে দাঁড়াতো,
দেখতো আমার মুখ। সেই চোখের দীপ্তি আমি মা হয়ে বুঝি আজ।
ওখানে মায়াময় সংশয় থাকে। মায়ের চাইতে এই দুনিয়ায় কে আর ভালোবাসে বেশি? আমার চলার পথ মা যদি হেঁটে দিতে পারতো, সেই তার ভাবনার বুননে।
মা এখন একা কৃষ্ণচূড়ার পাঁপড়ির ভাঁজে শুয়ে আছে। আমি নাই। কেউ নাই।
মহাকাল বৃষ্টির, কাঠফাটা রৌদ্রের তাপ, সুপারি গাছের আশেপাশে
মাটির অতলান্তে কোন সেই পথ?
পিঁপড়াগুলোকে হাতের তালুতে নিয়ে জানতে চাইলাম
মনে হলো, মাকে তারা ছুঁয়ে এলো
ওদের ভাষা জানা নাই তাই
মায়ের খবরগুলো পেলাম না।

(সেপ্টেম্বর;২৮) 

শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

দিনের কোন সময়টা আমার অপছন্দ?
-সন্ধ্যা। সন্ধ্যায় দম বন্ধ হয়ে আসে। কেবলই মনে হয়, কোথাও কেউ নেই। কোথায় ফেলে এসেছি সব। অথচ আমি এখানেই, এখানে, যেখানে বর্তমান। বর্তমানই সম্ভাবনা, সম্ভাবনা মানে জন্মেছে কিছু, সৃষ্টির ঢেউ। ক্রমশ সৃষ্টির মধ্য আকাশে দাঁড়িয়ে লাল চাঁদের মতো, যার দিকে সবাই তাকিয়ে।

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

#মাতাল

রাত ঠান্ডা এবং একা ছিল
পেছনে মাতাল।
শরীরের গন্ধ নাই তার।
সে গান গাইছিল উচ্চস্বরে
সে বকছিল যেন কাকে!
সে চাইছিল, আমিও তাকাই পেছনে.
কিন্তু রাতের অন্ধকার আর একাকীত্ব
নিষেধ করছিল আমাকে।
গল্প কখনো কাউকে খোঁজে,
কেউ কখনো গল্পকে
মানুষ মানুষকে ভয় পায়
ঘড়ির কাঁটা জানে অনেক কারসাজি।
#চুমু 

ঠোঁট আগুনের মত তপ্ত তাদের
ফেরার পথে অলিতে-গলিতে জড়িয়ে
যাদের ভালোবাসাবাসি,
ওরা যে কিছুক্ষণ আগেই থামিয়ে দিয়েছে
একটি নক্ষত্রের পতন
সে খবর পায়নি।
আমি থমকে যেতে যেতে ভাবি,
হৃদস্পন্দন ধরে হেঁটে আরো কিছু এগিয়ে
ওদের পেছনে ফেলে এসে ভাবি;
ভালোবাসায় মাখামাখি-
মানুষ কিংবা পাখিদের একা থাকতে দিতে হয়।
এ শহরে আকাশে, উতসবের দিনে উজ্জ্বল আলো
তাতে কখনো বারুদের গন্ধ, মুহুর্তে মিলিয়েও যায়।
এখানে সাগরের পাশে, বারান্দায়, জানালার কার্নিশে
ঠোঁট মিশে থাকে ঠোঁটে!
আমার মন কেমন করে!!

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭


মানুষ তারপর

মানুষ তারপর নিজের দিকে তাকায় নিজেকে নিয়ে ভাবে, নিজের জন্য ভাবে। ভোর এসে গেলে হঠাত ভেঙ্গে যাওয়া ঘুমে কোন এক জড়তা মিশে থাকে। ভুলে যেতে থাকে গন্ধের নাম। গন্ধের নাম কি মনে রাখা যায়? কারো শরীরের, কারো প্রস্থানের, কারো বেদনার? এক ভোর হাতে নিয়ে আকাশ রঙ বদলায়। নীরব রাস্তায় এরপর একটা দুটো করে আরো মানুষেরা রিক্সার টুংটাং, ধূলারা তখনো পরিত্যক্ত নয়। তখনো চোখের পরিচয়ে কেউ কেউ হাসে। কেন হাসে? কেন দিন হেরে যায়? কেন মানুষ আর কাউকে চেনেনা? সুবোধ কেন পালায়? একটা বীভৎস পরাজিত দিনে মানুষ অতঃপর নিজেকে বাঁচাতে নাভীশ্বাস। কোথাও সময় থাকেনা। আলো থাকেনা। নিজস্ব যুদ্ধে হারতে থাকা জীবন্ত আত্মারা সব- এরকম করে ডুবে যায় কেন ডোবে?
আশ্চর্য পাপ
- তানজিনা নূর-ই সিদ্দিকী

ব্যাথা, নৈঃশব্দের শিশু
স্মৃতি ধ্যান, বিনম্র ঈশ্বরে স্থির-
অবশ্যম্ভাবী।
অমোঘ আনন্দে ঠাঁসা আশ্চর্য পাপ।
এতে নিমগ্ন হও, ডুবে যাও।
সমস্ত শরীরে নামাও শুভ্রবসন।

আমাকে ফেরাও বিষণ্ন ঢেউয়ের
বিরামহীন বিশ্রাম থেকে।
ওষ্ঠের তাপ মাটিতে লুটাক-
ধূসর ক্ষীণ মেঘ, শীতকাঁথা।
আর, অমন করে হেসো না।
মনে রেখো, হেসো না।
হাসলেই আনন্দ অশ্রু
হাসলেই ভাঁজ খোলে-
কাপড়ের আড়মোরা;
কেবলই ভাবতে থাকি,
পৃথিবী সুন্দর!
অথচ দু'চারটে লাশ রোজ ভাসে
অথচ ফেরার পথে অনিশ্চয়তায়
পকেট ফাঁকা।
অথচ মাসের মধ্যভাগে শূন্য হয়ে যায়
অনেকের বুক।
ভারি নিঃশ্বাসে বৃত্তবন্দী বাতাস।
খোলসের ঘরে দুমড়ে মুচড়ে যায়
খবরের চাকা।

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাতাসের আহ্লাদী আচারে যে মুহূর্তে চুল উড়ে উড়ে যাচ্ছিল যেন শাড়ির আঁচল, মায়াবী-কোমল, যেন রুক্ষতা নেই পৃথিবীতে আর, যেন ঢেউ গুনে গুনে আছড়ে পড়ছিল পায়ে ... প্রশান্ত, সুধীর বিকেলের মত, ছায়া-ছাই রঙে অপারগ অতীতের সানাই। তখনই কোমরের ভাঁজে ভালবাসা রেখে হাত বলল এগিয়ে যেতে ... যেতে যেতে কিছু দূরে, ফিরে দেখলাম, মৃতপ্রায় মাছের চোখের মত সেই মুহূর্তটাও ... রাঙা মুহূর্তটাও, শুয়ে আছে!