শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩

এই পৃথিবীটা, বলতে আমি বোঝাচ্ছি মূলত
পৃথিবী আদতে যতটা বিশাল, সে কথা নয়।
আজ এই একলা রাত, সেটাই আমার অতি ক্ষুদ্র এক পৃথিবী মনে হচ্ছে।
একাকীত্ব অসহ্য হয়ে ওঠা ঘরে,
ঘোরে আমি বলছি একা একা কথা,
অস্থির হয়ে পায়চারি এক দফা শেষ করে
ভীষণ কষ্টে টেনে টেনে মনকে নিয়ে এলাম, এই পাতায়।
সে আমার কথা শুনছে না!
সে আমাকে একা প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।
আমি কাঠফাটা রোদে ঠোঁট শুকোনো আবেগ নিয়ে ছটফট করছি, মনের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।
সে ঘরের এক কোণায় ঠাঁয় বসে আছে।
তার অবশ্য আমায় ফেলে বন নদীতে ঘুরে ফিরতে অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না।
তবে ইদানীং আমার মতই ওর দশা!
ওর ভাল লাগে না কিছুতে, সে আমার মত অস্থিরতায় ভুগছে।
তাই দরজা বন্ধ করে সেও একা হয়ে রয়! আমাকেও দেখা দেয় না ...
অথচ শুধু আমি জানি, মনের দেখা না পেলে নিঃশ্বাসে বিষ ঢুকে যায়,
মন ছাড়া আমার আর কে আছে এখানে?
পৃথিবী যতটা বিশাল, মন আর আমার নিজস্ব অস্থিরতায়
অস্তিত্ব সংকটে তারো বেশি অনতিক্রম্য দূরত্বে আমরা বিলীন হচ্ছি ...
বিশাল পৃথিবী যেভাবে সময়কে সঙ্গে নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তাতে করে মন আর আমার একাকার হয়ে থাকা বড় প্রয়োজন।
... নয়ত আমাদের কে আর সামলাবে?

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৩

রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অদ্বিতীর শরীরের উত্তাপ বাড়ছে। ঘুম একদম নেই চোখে। কেবল আছে অবসন্নতা, বিষাদগ্রস্ততা। এমন কথা ছিল না। কথা ছিল, কাজ সেরে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার। কিংবা এক; দুদিন এদিক সেদিক যদিও বা হয়, পাশে পেলে খুনসুটি করে সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে দেবার কথা ছিল। খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুণগুণ গান করার কথা ছিল, চুলের গন্ধ নিতে নিতে, আদরের গন্ধে লেপ্টে দেবার কথা ছিল। অথচ সবটাই অধরা মনে হয়। কেন?

অপূর্ব আর অদ্বিতীর পরিচয়টা এমন করেই। ট্রেইনের কামড়ায় বহুদিনের পুরনো ভাল লাগার মানুষটিকে হঠাৎ আবিষ্কারের মত নয় বরং একেবারে অদেখা অদ্বিতীকে অপূর্ব কেমন আকুল করে কাছে টানতে লাগলো। যেন সে বহু আগেই আবিষ্কৃত ছিল তার!

অদ্বিতী তখন বড় একা, অসহায়। জীবন তাকে আরো একবার বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল তার পরম আকাংখিত, নির্ভরতার মানুষ থেকে। খুব ছোট কারণ মনে হবে আপাতদৃষ্টিতে, কিন্তু অদ্বিতী পারেনি মেনে নিতে। যাকে সে এতটা উজাড় করে দিয়েছিল বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ সে তাকে বুঝলো না? তবু সে বোঝাতে চেয়েছিল, যা অভ্র ভাবছে তেমন কিচ্ছু নয়, অপমানে ঋজু হয়ে গেছিল অদ্বিতী, যখন তার মনে হল, তার জীবনের অদ্বিতীয় মানুষটিও পারল না বিশ্বাসের সুতোয় হাঁটতে! সেও ভেবে নিল সাধারণের মত, অদ্বিতীর মনে অন্য কারো বাস, সে ঠকাচ্ছে তাকে! পরিমিত বন্ধুত্ব  আর ভালবাসার মাঝেও সবার জন্য সম্মান অদ্বিতীর মনে, তা জেনেও অভ্র সন্দেহ করল অদ্বিতীকে!  অদ্বিতী তখন ভাবছিল অন্য কোন কিছু। সে ভাবছিল, অভ্রকে সে সাধারণে নামাতে পারবে কি করে? এর চাইতে আলাদা হয়ে যাওয়ায়ই বরং ভালবাসার মান বাঁচে ... অতঃপর মনে পরস্পরের জন্যে কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে পরস্পরকে এড়িয়ে চলার সংকল্প। অভ্র আর অদ্বিতী আর কখনো মুখোমুখি হয়নি।

পৃথিবীর রঙ তখন তার কাছে ফিকে। অদ্বিতী জানত, হয়ত অভ্র পারবে একদিন বুঝতে তার ভুল। কিন্তু আত্মঅভিমান গলবে না তাদের কারোই কোনদিন। পৃথিবী এগিয়ে যায়। অদ্বিতী পড়ে থাকে একা। সে কথার মালা গাঁথে, খুঁটিনাটি গল্প করতে ইচ্ছে করে তার। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তার ইচ্ছে করে কেউ হাত বাড়িয়ে দিক, জিজ্ঞেস করুক পথে কোন সমস্যা হয়েছিল কিনা, কিংবা নুন, তেল, পেঁয়াজের সাবলীল গল্পই এক দুবার, নতুন কবিতার রস রুপ ছন্দ, আকাশ ফাটানো অট্টহাসির বান, খুব অল্পেতে সুখ খুঁজে ঘুমিয়ে পড়া। নতুন বইয়ের মলাটে উৎসর্গ করা তার নাম দেখতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে অকারণে অচেনা রাস্তায় সেই এক কাউকে পাশে নিয়ে হাঁটতে, পৃথিবীর আদি -অন্তের গল্প আর শুধু দুজনের গল্পে মশগুল হতে ইচ্ছে করে ... হয় না ... শুধু শূণ্যতা থাকে তার পাশে।

এমন জীবনেই অভ্যস্ত অদ্বিতী হাতছানি পায় অপূর্বের একদিন। অপূর্ব তাকে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনতে শেখায়। যে অদ্বিতী অচেনা মানুষ এড়িয়ে চলে, সেই কিনা বলে বসে একেবারেই অচেনা অপূর্বকে তার গোপন কষ্ট আর একাকীত্বের কথা। অদ্বিতী অবাক হয় মাঝে মাঝে। অপূর্ব কেন তাকে বৃষ্টির গল্প বলে, সংসার সাজানোর গল্প বলে, বউকে তার গোপন জীবন বলে ফেলার কথা বলে, ভালবাসার কথা বলে আর অদ্বিতীর নাম কেন বার বার লিখে দেয় খুব কঠিণ কোন আলোচনার মাঝে! ফেইসবুকে এক ঝলক দেখা অপূর্ব দু তিন দিনের কথোপকথনে অদ্বিতীর আমূল জেনে যায়! আর একদিন অবাক করে দিয়ে বলে বসে জীবনসঙ্গী হবার কথা! অন্ধ বিশ্বাস পুঁজি করে অদ্বিতী আরো একবার ভালবাসে। এতটাই ভালবাসে যে নিজেকেও ভুলে বসে!

খুব সুখে ভেসে যায় তারা। কিন্তু এবার ধাক্কা আসে ঝড়ের মত, মীমাংসিত সমঝোতায় মুখ ফেরানো নয়। বরং যেই অপূর্ব ভালবেসে কাছে টেনে নিয়েছিল, অদ্বিতী জানতে পারে, সে তার কাছে লুকিয়েছে তার নষ্ট অতীত। শুধু তাই নয়, অতীতের রেশ অদ্বিতীর আড়ালে জিইয়ে রেখেছে সে! অদ্বিতীর ভাগ সে করে নিয়েছে অন্য আরো অনেকের সাথে। অদ্বিতী বুঝতে পারে, এত নিটোল সম্পর্কেও অপূর্ব যখন তার সবটা লুকিয়ে আদ্বিতীকে বিয়ে করেছে আর সঙ্গে করে বয়ে বেড়াচ্ছে অতীতের নোংরা অভ্যাসের সঙ্গিনীদের, সেখানে তবে কি আর অবশিষ্ট আছে? ভালবাসা কোথাও নেই, বিশ্বাস নেই কোথাও কি? তবু বারবার অপূর্বকে প্রশ্ন করেছে সে, কারণ জানতে চেয়েছে। অপূর্ব তিরষ্কার করেছে, এড়িয়ে গেছে। অদ্বিতী শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারেনি। কেন অপূর্ব অদ্বিতীকে বেছে নিয়েছিল? কেন অনুভূতির সম্পর্ক গড়েছিল তবে? কেন স্বপ্ন দেখিয়েছিল? বারবার জানতে চেয়েছে একটাই কথা, মানুষ একই সঙ্গে কি করে পারে, বিশ্বাস অর্জন করে বিশ্বাসঘাতকতা করতে?! ... পায়নি, অপূর্ব বলেছে, ওসব তার ভুল ছিল, অদ্বিতী মানতে পারে না। ভুল সেটা তখন যখন সংশোধনের তাড়া থাকে, অনুশোচনা থাকে। কারো বিশ্বাসকে ঠকিয়ে অশ্লীলতা ভুল হতে পারে না কখনো।

কিন্তু অদ্বিতী পারে না। হেরে যায় ... কতবার কতভাবে অপূর্বকে সে ছেড়ে যেতে চায়, পারে না। আত্ম অভিমানও পা আটকে ধরে অদ্বিতীর। অপূর্বকে ছেড়ে থাকার কথা ভাবতে পারে না অদ্বিতী। যতবার ভাবে দূরে যাবে, ততবার আরো অসহায় হয়ে পড়ে সে! সে বুঝতে পারে, অপূর্বকে ছেড়ে থাকতে সে পারবে না! নিজেকে ধিক্কার দেয়, কি করে এত দূর্বল হল সে! যেই অপূর্বের মুখের দিকে তাকালে অদ্বিতী সব কষ্ট ভুলে যায় সে তাকে এভাবে ছোট করেছে, এভাবে ঠকিয়েছে ভাবতে পারেনা সে। কি করে মানবে অদ্বিতী অপূর্বকে? অথচ গোটা পৃথিবীতে অদ্বিতীর ওই এক অপূর্বই আছে ভালবাসার।

সেই থেকে এক ছাদের নিচে তাদের ভিন্ন আবাস। আদ্বিতী জানে না, অপূর্ব এখনো তার পুরনো অভ্যাস জিইয়ে রেখেছে কিনা! কিন্তু তার জানতে ইচ্ছে করে, অপূর্ব তাকে ভালবাসে তা, তার ইচ্ছে করে অপূর্বকে নিয়ে আবার শুরু থেকে শুরু করতে, যেখানে অপূর্ব কিচ্ছু লুকাবেনা তার কাছে। অপূর্ব অদ্বিতীর কপালে চুমু এঁকে বলবে, তোমাকেই শুধু ভালবাসি ... এমনটা হয় না।

রাত দীর্ঘ হয়, সময় ছুটে চলে। এক ছাদের নিচে দুটো মানুষ দিনে দিনে দূরে সরে যায় ... এক ঘরে আলো জ্বলে, অন্য ঘরে অদ্বিতী জ্বরের ঘোরে ছটফট করে ওঠে, তার মনে হয়, অপূর্ব এসে ওর কপালে হাত ছোঁয়ালেই সব জ্বর দৌড়ে পালাবে, কিন্তু এমন হয় না। কারণ, অপূর্বের পরম আকাংখিত হাত যে মূহুর্তে অদ্বিতীর কপাল ছোঁবে, ভালবাসার অপমানে সে মূহুর্তেই মৃত্যু হবে অদ্বিতীর ...

অদ্বিতীর বিচ্ছিন্নভাবে কখনো অভ্রের কথা মনে পড়ে। কে আসলে ভুল ছিল, কে আসলে ঠিক?











বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

কতকিছু লিখব করে, কতকিছু লিখে, মুছে ফেলে, ফিরে গেছি আমার ঘরের কোণে! ইদানীং আরো বেশি মাত্রায় আমি ঘরকেন্দ্রিক হয়ে গেছি। ঘরের বাইরের কাজ যতটা পারি নিজের ভেতরে নিজেকে গুটিয়ে সেরে নিই, মানসিক যুদ্ধ শেষে আমি ফিরি এই ঘরে ... এই ঘর আমার নিজেকে কষ্ট সইয়ে নেবার অসীম শক্তি দেওয়া প্রিয় দেয়ালঘেঁষা। এই ঘর আমার ভয়েরও কারণ। কিন্তু আমার একা রাতেও এ ঘর আমার সঙ্গী। একমাত্র ...
আমার ঘর আর কাউকে বলে না কত শত বার চোখ দু"টোকে বাঁচাই আমি ফুলে যাওয়া কান্নার আঘাত থেকে। এই ঘর কাউকে বলে না, কি করে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু আমি। কি করে দ্বন্দ সামলে প্রতি ভোরে আমাকে জাগানোর জন্যে আমি নামি খাট থেকে, পা ফেলে হেঁটে যাই অন্য ঘরে ... কি করে আয়নায় দাঁড়াই, নিজেকে সাজাই ... কি করে খাদ্যনালীতে খাবার পৌঁছে দেই। বাঁচতে যে হবে! কি অসম্ভব হাস্যকর লাগে মাঝে মাঝে বা অধিকাংশ সময়, এই বেঁচে থাকা!! ...
হাহ! বিশ্বাস হারানো নাও নিয়ে বয়ে চলেছি এ যাত্রা। কখনো এত অসহায় আর একা ছিলাম না আমি ... এই ঘর সব জানে তার।
ঢেউয়ের পরে নিস্তরঙ্গ জল যদি দেখতে তুমি
হয়ত বুঝতে তবে, আমি কি ভাবছি!
খোলা রাস্তার ব্যস্ততায় শীতার্ত হেঁটে গেলে পরে
রাত দীর্ঘ হয়ে ওঠে 
হৃদয় ভুলেও যায় তখন
শরীরে ওম আছে কিনা।
হাসির রেশে শুষ্ক হয়ে থাকে অভ্যন্তরীণ মরুভূমি
উপশিরায় অবিশ্বস্ত কেউটে সাপ খোঁড়ে আস্তানা।

মানুষের বিদ্রোহী চোখে নিষ্পাপ খেলা করে
জাগরুক গান পৃথিবীর
সে জাগাতে পারে না ...
বিস্মিত হবার চেতনাকে

ঢেউয়ের পরে নিস্তরঙ্গ জল যদি দেখতে তুমি
হয়ত বুঝতে তবে, আমি কি ভাবছি!


(লেখাটি'র অনুপ্রেরণা কিছুটা একটি হিন্দি ছবিতে ব্যবহৃত কয়েকটি লাইন থেকে পাওয়া। বাকিটুকু'র জন্য আমি কৃতজ্ঞ একা রাস্তা আর বন্ধুহীন বন্ধুর পথ ধরে হাঁটা অনুধাবনের ... প্রথম প্রকাশ, ফেইসবুকে) 

শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১২

অতঃপর ডিসেম্বারের গভীর রাতে আমার বোধ হল, এখন শীত এদেশে।
কাল সারাটাদিন অস্থির নিমগ্নতায় কাটিয়েছি আমি। মগ্ন ছিলাম, কারণ আমার কোন কারণ ছিলনা, মনকে বোঝাবার, কেন সারাদিন ঘরময় অস্থির পায়চারি শেষে ক্লান্ত হলনা শরীর?
কেন মন ফিরে ফিরে ঘুরে গেল মহাশ্মশানে! না, সেখানে কোন মানুষের অস্তিত্ব ছিলনা, অথবা মেলেনি কোন অশরীরি। বড় বড় বটের আড়ালে, শুকনো নদীর বুকে জেগে থাকা চরে কেবলি শূণ্যতা ছিল। অথচ হাসির গমক শেষে ফিকে হয়েছিল সূর্য্যের রঙ! একটা করে হলুদ ফুলের নুয়ে পড়া রেণুতে পা রাখার ভয়ে সামলে চলা বহু পরিচিত পথও মেলাতে পারেনি সে অস্বস্তির রেশ ... শীতের একার রাত বেসামাল করে দিল তাই। 

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১২

জীবনের দর্শন বদলায়, খুব ঝংকার তুলে
কিংবা গুমোট অন্ধকারে নিরবে।
যে জীবন শকুনের ডানায় ভর করে মাঝরাতে উড়ে যেতে চায়
সে জীবনই প্রলুব্ধ চোখে তার বীভৎস ভয়াবহতায় কাঁপে।
পিচগলা পথ দেখে মনের অন্ধকার মনে পড়ে কখনো
খুব চলে কিছুক্ষণ দ্বন্দ ... তারপর
ডাকাতের মত কোন ট্রাক ছুটে আসে
ধ্যান ভঙ্গ হয় ...

বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২




অনুচ্চারিত শব্দমালা ২

বেড়ে ওঠার প্রয়াস নাকি বেঁচে থাকার প্রয়াস? বাড়িয়ে ওঠার কিংবা বাঁচিয়ে তোলার? যুক্তি কিংবা বুদ্ধির দ্বারস্থ না হবার ইচ্ছেটাকে ম্রিয়মান করে, জুঝে আত্মার পরিশীলিত রুপের সঙ্গে, সৃষ্টিশীলতা আশীর্বাদরুপে যে মানুষকে আরো আমায় রূপান্তর করেছে, তার সঙ্গে পেরে উঠতে, তাকেও ছাপিয়ে উঠতে গিয়ে বেলাকেই অবেলার নাম দিয়ে, সভ্য হয়ে ওঠার অষ্টপ্রহরকেও আবোল তাবোল বুঝিয়ে এই যে চলেছি যার পিছে, হয়ত ফানুস হবে তা শেষেও ... তা জেনে, এর তবে ব্যাখ্যা কি দেব? যদি বা এও বলা চলে, ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই তারও, যদিও বা বোঝাই একে আমি, বাঁচার প্রশ্নে এসে থামে না কি তা? ... এই দায় একান্ত আমারই, ছুটব তবে আর কোথায়? একার আকাশ যদি হারিয়েই ফেলেছি তবে বারবার প্রশ্নের ভিড় বাড়াবাড়ি নয়? ...